Thursday, April 16, 2020

ব্রেস্ট ট্যাক্স প্রচলত ছিলো যখন


Breast Tax

************

breast tax pic


⏩👧👧💓খুব বেশি দিন আগে নয়। মাত্র দুশ’ বছর আগে ভারতের কিছু অঙ্গরাজ্যে প্রচলিত ছিলো -  ‘স্তন কর' বা 'Breast Tax’ | এর আরেকটি নাম মুলাকরম (Mulakaram)।আজকের অত্যাধুনিক যুগে যাদের পক্ষে এটা বিশ্বাস করাও শক্ত তারা বা উৎসাহী মন  গুগল করে দেখে নিতে পারেন। সময়টা ব্রিটিশ শাসনকাল 1803 সাল। তখন নিয়ম ছিলো ব্রাহ্মণ ব্যতিত অন্য কোনো হিন্দু নারী তার স্তনকে ঢেকে রাখতে পারতেেে  না। একমাত্র  ব্রাহ্মণ শ্রেণীর হিন্দু নারী তাদের স্তনকে এক টুকরো সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে পারতেন, বাকি হিন্দু শ্রেণী নারীরা প্রকাশ্যে স্তন উন্মুক্ত করে রাখতে হতো। তবে যদি কোনো নারী তার স্তনকে কাপড় দ্বারা ঢেকে   রাখত চাইতো,😱 তবে তাদেরকে স্তনের সাইজের উপর নির্ভর করে ট্যাক্স বা কর দিতে হতো। 😜এই নির্মম করকেই বলা হয় স্তন কর বা ব্রেস্ট ট্যাক্স।প্রতিবাদ করলে🐥 নারীদের বুকের উপর আরোপিত কর বন্ধ করতে পারেনি কেউ। প্ররিশেষে বন্ধ করেছিলেন শেষপর্যন্ত "কেরালার চেরথালা শহরের নাঞ্জেলি নামের অতি সাধারণ এক নারী। নারী হিসেবে নাঞ্জেলিকে আরও অনেকের মত জনসম্মুখে 😭অস্বস্তি ও লজ্জা পেতে হয়েছে।তাই তিনি ঠিক করলেন প্রতিবাদ করবেন। তিনি সাদা কাপড়ে  বক্ষ আবদ্ধ করে সমাজে বের হলেন। সমাজের হর্তা কর্তারা হন্তদন্ত হয়ে নাঞ্জেলির বাড়ি গিয়ে হাজির হলেন। খাজনা চাইলেন। কিন্তু খাজনা না দিয়ে নাঞ্জেলি যেটা করলেন, সেটা দেখার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না। নাঞ্জেলি দুই স্তন কেটে দিলেন সবার সামনে।খাজনা আদায়কারীরা ভয় পেয়ে পালালেন। ঠিক এর পরের দিন নারীদের বুকের উপর খাজনা তুলে নিলেন ত্রিভাংকুরের মহারাজা স্যার মুলাম থিরুনাল। কারণ বুকের ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণে নাঞ্জেলির মৃত্যুতে জনগণ ক্ষেপে গিয়েছিলেন। ঘটনার সময় তার স্বামী কান্দাপ্পান উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ফিরে এসে দেখলেন তার স্ত্রীর দেহ চিতায় জ্বলছে।ভারতের সতীদাহ আইন নিয়ে অনেক আলাপ-বিলাপ হয়েছে এযাবৎ। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসায় নাঙ্গেলি র স্বামী নিজেকেও উৎসর্গ করেছিলেন সেই চিতায়। মৃত স্ত্রীর চিতায় স্বামীর প্রাণ দেয়ার এই ঘটনা সমগ্র মানব ইতিহাসের আর কোথাও নেই। এই নির্ভীক সাহসী প্রেমিক যুগলের আত্ম বিসর্জনের মাধ্যমেই সমাপ্তি ঘটেছিলো এক ঘৃণ্য প্রথার।


Whatsapp Button works on Mobile Device only

Start typing and press Enter to search